(DOWNLOAD PDF) æ অন্ধ জাদুকর ⚣ eBook or E-pub free

শুরুর দিকে গল্প এবং গল্প বলার ধরণে 'কালো বরফ'এর সাথে মিল পাচ্ছিলাম। এরপর অবশ্য যত এগিয়েছি সেটি কেটে গেছে। ফিকশন, ননফিকশনের মিশেল ভালো লেগেছে। মাহমুদুল হক, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এসেছেন উপন্যাসে। প্রিয় লেখক মাহমুদুল হক ছিলেন বেশ অনেকখানি জুড়ে, আমার জন্য এ বইটি কেনা এবং পড়ার বড় একটি কারণ এটি, যদিও মাহমুদুল হক সম্পর্কে জানতে ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে এ উপন্যাসে লেখা অনেক কিছুই আগে থেকে জানা ছিল তবুও আরও একবার পড়তে মন্দ লাগেনি। বরং গল্পের সাথে যেভাবে মেলানো হয়েছে সেটা দারুণ লেগেছে।আমার পড়া লেখকের প্রথম বই এটি। আমার কেন যেন এই ধারণা জন্মেছিল যে আহমাদ মোস্তফা কামালের লেখা কঠিন হবে, কিন্তু বই পড়ে বুঝলাম বেশ সহজ গদ্য তাঁর, সহজ তবে গভীরতা আছে অনেক। আগামীতে লেখকের আরও বই পড়ব বলে ঠিক করেছি। আমি খুবই নিম্ন শ্রেণীর পাঠক। খুব বেশি গুরুগম্ভীর বই আমার পড়া হয় না। একটানে শেষ করে ফেলা যায় এমন বই পড়া হয় সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এই বই আমি কয়েক পাতা করে পড়ার পর বিরতি নিয়েছি, নিজেকে কায়সারের জায়গায় বসিয়ে চিন্তা করেছি, তার দৃষ্টিভংগি বুঝার চেষ্টা করেছি। অনেক কিছু বুঝতে পারি নাই। এত কিছু বুঝার জন্য যেই চিন্তনশক্তি দরকার তা হয়ত আমার এখনো হয়ে উঠে নাই। কিন্তু অনেকদিন পর কোন একটা বই পড়ে আমি ভাবতে শুরু করেছি। এটাই হয়ত আমার জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া মানুষের মনে অনেক রকম দুঃখ হয়। একরকম দুঃখ আছে,যেটা মানুষকে দুঃখবিলাসের আনন্দ দেয়। মানুষ এক চলচ্চিত্র বার বার দেখে,এক বই বার বার পড়ে দুঃখ পায়। দুঃখ পেয়ে কাঁদে । কেঁদে আনন্দ পায়। এ তাদের দুঃখ আনন্দ মেশানো কান্না। দুঃখের জন্য কান্না। দুঃখকে অনুভব করতে পারার আনন্দ।আমার মনে অন্য পৃথিবীর এক দুঃখের জন্ম হয়েছে মুস্তফা কামালের 'অন্ধ জাদুকর' পড়ার পর। বইটা পড়ার পর যে ভয়াবহ বিষাদের অনুভূতি আমার পৃথিবী নীল করে রেখেছে। এই বিষাদ চোখে কান্না আনে না,কান্নাকাটিকে সিরিয়াস ধরনের ফাইজলামি মনে হয়। এই বিষাদ নিয়ে দুঃখবিলাস করা যায় না,সে এতো সস্তা না । উপন্যাসে কায়সারের 'লেখক' না হতে পারার কষ্ট, মৃন্ময়ীবিথিকে না পাওয়ার কষ্ট,বোন কাজলকে হারানোর কষ্ট, এই শহরে কায়সার নিজেকে অনাকাঙ্ক্ষিত বহিরাগত মনে করার কষ্ট আপনাকে বিষন্ন করেই ছাড়বে। ভালো উপন্যাস; একটুও সময়ের অপচয় মনে হবে না। (DOWNLOAD PDF) ⛅ অন্ধ জাদুকর ⚢ এত এত সম্পর্ক আমাদের, তবু কেন কেউ কেউ এমন গভীর নিঃসঙ্গতায় ভোগে? কেন কিছু মানুষ জীবনের নানা কোলাহল আর আনন্দের বিবিধ উপকরণ থেকে চোখ ফিরিয়ে খুঁজে বেড়ায় অলৌকিক সুরছন্দবর্ণশব্দগন্ধ? কেন সবার মধ্যে থেকেও কেউ কেউ আলাদা হয়ে যায়? এই উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র কায়সারও হয়তো সেই ধরনেরই মানুষ। সে তো জানেই, বিবিধ সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে জীবন কাটে আমাদের। এর কিছু প্রকৃতিপ্রদত্ত আর কিছু স্বনির্মিত। এই সম্পর্ক যেমন মানুষের সঙ্গে মানুষের, তেমনি মানুষের সঙ্গে তার পরিপার্শ্বেরও। প্রকৃতির নানা উপাদান বা উপকরণ, এমনকি জড়বস্তুর সঙ্গেও নানাভাবে সম্পর্কিত হয় মানুষ, আর নিজের অজান্তেই এসব সম্পর্ক বহন করে বেড়ায় জীবনভর। এতকিছু জেনেও সে কেন কোথাও নিজেকে মেলাতে পারে না? এ উপন্যাসে এ ধরনের কিছু মানুষকে তুলে এনেছে গভীর মমতা আর ভালোবাসা দিয়ে আর গল্প বলার ফাঁকে ফাঁকেই ক্রমশ উন্মোচিত হয়েছে জীবন ও জগতের অনেক অচেনা অঞ্চল, আবিষ্কৃত হয়েছে নিসর্গজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিবিধ সুরছন্দবর্ণগন্ধশব্দ দিয়ে তৈরি এক অদ্ভুত জাদুময়তার জগৎ। তবে এটুকু বললে এ উপন্যাস সম্পর্কে আসলে কিছুই বলা হয় না। নিছক একটি গল্প বলেই শেষ হয়নি এটি, বরং আখ্যান বর্ণনার প্রচলিত ধরন থেকে বেরিয়ে এসে এই উপন্যাসে লেখক উপহার দিয়েছেন এক অভিনব আঙ্গিক, মুছে ফেলেছেন ফিকশনননফিকশনের ভেদরেখা। এ ধরনের আঙ্গিক বাংলা উপন্যাসে আর কখনো দেখা যায় না।